ঘটকপুকুরে অগ্নিকাণ্ডে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে ফিরহাদ, দু'লক্ষ টাকা অর্থসাহায্য - The News Lion

ঘটকপুকুরে অগ্নিকাণ্ডে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে ফিরহাদ, দু'লক্ষ টাকা অর্থসাহায্য




দি নিউজ লায়ন ;  সাত সকালে ভয়াবহ অগ্নিকান্ডে তিন জনের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটল ভাঙড়ের ঘটকপুকুরে। নিহতরা হলেন মোশারেফ মোল্লা (৪২),মোমতাজুল মোল্লা (১৫),রাকিবুল মল্লিক (১৮)। 


দমকলের ঘণ্টা চারেকের চেষ্টায় নিয়ন্ত্রণে আসে আগুন।ঘটনাস্থলে পরিদর্শন করতে এসে মৃতের পরিবারদের দুই লক্ষ  টাকা করে সরকারি ভাবে সাহায্য দেওয়ার ঘোষণা করেন পুর ও নগর উন্নয়ন দপ্তরের মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম। ঘটনাস্থলে আসেন দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার জেলা শাসক পি উলগানাথান, বিভিন্ন পুলিশ আধিকারিক সহ আরাবুল ইসলাম প্রমুখ। এদিন ফিরহাদ বলেন,' অগ্নিকাণ্ডে মৃত্যু অত্যন্ত দুঃখজনক ঘটনা। 


মুখ্যমন্ত্রী এই ঘটনার খবর পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে তিনি আমাকে ঘটনাস্থলে পরিদর্শন করার জন্য বলেন। মৃতদের পরিবারের পাশে আমরা আছি। আমরা সব রকম সহযোগিতা করতে প্রস্তুত। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, রবিবার সকাল আটটা দশ মিনিট নাগাদ ঘটকপুকুরে ফজের গাজী নামে এক ব‍্যাক্তির তেলের গোডাউন থেকে কালো ধোঁয়া বেরতে দেখেন বাজারের লোকজন।মুহূর্তে আগুনের লেলিহান শিখা দেখা যায়।


দমকলকে খবর দেওয়া হয়।প্রাথমিক পর্যায়ে এলাকার লোকজন আগুন নেভানোর কাজ শুরু করেন৷ এর পর দমকলের চারটি ইঞ্জিন এসে ঘন্টাখানেকের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে৷ততক্ষণে আগুনের গ্রাসে পুড়ে ছাই হয়ে যায় কয়েকটি দোকান। তেলের দোকানের সামনে ঘটকপুকুর গোবিন্দপুরের বাসিন্দা মোশারেফ মোল্লার 'রোঙ্গিলা রেষ্টুরেন্টে' ও পুড়ে যায়।এর পাশাপাশি আরও চার পাঁচটি দোকান আগুনের গ্রাসে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। 


এই ভয়াবহ অগ্নিকান্ডের ঘটনায় অগ্নিদগ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই তিন জনের মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে,মোশারেফ মোল্লার তেলের গোডাউনের সামনে অবস্থিত রোঙ্গিলা রেষ্টুরেন্টে অগ্নিকাণ্ডের সময় দু'জন কাজ করছিলেন।আগুনের লেলিহান শিখায় তারা ভয় পেয়ে দোকানের শাটার নামিয়ে দিয়ে প্রাণ  বাঁচাতে দোকানের দোতলায় উঠে যায়। দোকানে আগুন লাগার খবর শুনে দোকানের মালিক মোশারেফ মোল্লা বাড়ি থেকে ছুটে আসেন।এর পাশাপাশি দুই শিশুকে বাঁচাতে দোকানের শার্টার খুলে দোকানের ভিতরে ঢোকেন।ততক্ষণে আগুন ভয়াবহ রুপ ধারণ করে।


 কলকাতা লেদার কমপ্লেক্স দমকল কেন্দ্র সহ প্রগতি ময়দান থানা থেকে দমকলের চারটি ইঞ্জিন সহ দমকল কর্মীরা এসে যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। আগুন যাতে ছড়িয়ে না পড়ে তার জন্য চেষ্টা চালান দমকলকর্মীরা। গোটা এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। একদিকে তেলের গোডাউন অপর দিকে রেষ্টুরেন্টে গ‍্যাস সিলিন্ডার মূলত দাহ্যবস্তু মজুত থাকার ফলে আগুন ভয়াবহ আকার ধারণ করে। 


তবে, গুদামে কেউ আটকে পড়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখার জন্য খোদ ভাঙড় থানার ওসি সমরেশ ঘোষ দোকানের পিছনের দেওয়াল ভেঙ্গে ঢোকার চেষ্টা করেন। কিন্তু আগুনের দাপটে ব‍্যার্থ হন।যদিও তিনি দোকানের ভিতরে কেউ আছেন কি না তা জানার জন্য হাঁকডাক করেন।তিনি কোন সাড়া শব্দ পান নি বলে জানান।যদিও দমকল কর্মীদের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসতেই দোকানের ভিতর থেকে উদ্ধার হয় তিনটি মৃতদেহ।

কোন মন্তব্য নেই

Thankyou To Comment us

Blogger দ্বারা পরিচালিত.